শুক্রবার, এপ্রিল ৪, ২০২৫
শুক্রবার, এপ্রিল ৪, ২০২৫

ভাড়াটে রুশ সেনা হিসেবে ইউক্রেন যুদ্ধে গিয়ে বাংলাদেশি তরুণ নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ভাড়াটে সেনাসদস্য হিসেবে অংশ নিয়ে নিহত হয়েছেন বাংলাদেশি এক তরুণ। তিনি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের মরিচালি গ্রামের মৃত সত্তর মিয়ার ছোট ছেলে ইয়াসিন শেখ।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) রাত পৌনে ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজ্জাদুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ঘটনাটি জানার পর খোঁজ নেওয়া হয়েছে। তবে সরকারি ছুটি থাকার কারণে অফিসিয়ালি পদক্ষেপ গ্রহণে একটু সময় লাগবে। তবুও মৌখিকভাবে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

এর আগে গত ২৭ মার্চ ইয়াসিন নিহত হলেও ঈদের পরদিন রাশিয়ায় থাকা তার বন্ধু মেহেদীর মাধ‍্যমে এ খবর নিশ্চিত হয় পরিবার। এ নিয়ে ইয়াসিনের পরিবারে চলছে শোকের মাতম।

জানা যায়, গত বছর বিদেশে গিয়ে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে চুক্তিভিত্তিক যোদ্ধা হিসেবে ইউক্রেন যুদ্ধে যোগ দেন ইয়াসিন। গত ২৭ মার্চ যুদ্ধরত অবস্থায় হঠাৎ মিশাইল হামলায় ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় ইয়াসিনসহ তার চার সহযোদ্ধার দেহ।

নিহত ইয়াসিন শেখের চার ভাই-বোনের মধ্যে দুজন আগেই মারা গেছেন। মা আর বড় ভাইকে নিয়ে ছিল তার সংসার। বড় ভাই ব্যবসায়ী রুহুল আমিন তার পড়াশোনা ও বিদেশযাত্রার খরচ বহন করেন।

রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়ার ছবি ও ভিডিও নিয়মিত ফেসবুকে আপলোড করতেন ইয়াসিন। গত ১ মার্চ বাবার মৃত্যুবার্ষিকীতে রাশিয়া যাওয়া, সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া এবং তার স্বপ্নপূরণ নিয়ে ফেসবুকে একটি ভিডিও আপলোড করেন তিনি।

ইয়াসিন ভিডিওতে বলেন, গতবছরের জানুয়ারিতে রাশিয়ায় একটি চায়না কোম্পানিতে চাকুরির জন্য আবেদন করি। গত সেপ্টেম্বর মাসে অফার লেটার পেয়ে চলে যাই রাশিয়া। মস্কো থেকে প্রায় ১১ হাজার কিলোমিটার দূরের ওই কোম্পানিতে তিন মাস চাকরির পর অনলাইনে আবেদন করে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে চুক্তিভিত্তিক সৈনিক হিসেবে যোগ দিই। দেশে না হলেও বিদেশে সৈনিক হতে পারায় বাবার স্বপ্নপূরণ হয় বলেও জানান তিনি।

ওই ভিডিওতে আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিচারণ ও তার রাজনৈতিক সহকর্মীদের জন্যও দোয়া প্রার্থনা করেন ছাত্রদল কর্মী ইয়াসিন। সরকারবিরোধী আন্দোলনে যোগ দিয়ে তার সাহস ও ইউক্রেন যুদ্ধে যোগ দেওয়ার মনোবল তৈরি হয় বলে জানান তিনি। যুদ্ধে মৃত্যু হলেও তার কোনো আফসোস থাকবে না বলেও ভিডিওতে জানান ইয়াসিন। ওই ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করার মাস না পেরোতেই যুদ্ধে ইউক্রেনের মিসাইল হামলায় নিহত হন ইয়াসিন।

ইয়াসিনের চাচাতো ভাই রফিকুল ইসলাম রবি জানান, রাশিয়ায় যাওয়ার জন্য ঢাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে রাশিয়ান ভাষা শিখে ইয়াসিন। পরে বন্ধুর সহায়তায় ইয়াসিন রাশিয়ায় একটি কোম্পানিতে ভালো চাকরি পায়। সবই ঠিকঠাক চলছিল। পরে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দিলে সব ওলটপালট হয়ে যায়।

তিনি বলেন, রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার সময় ইয়াসিনের মা ও বড় ভাইকে গাড়িতে করে ঢাকায় নিয়ে অনাপত্তিপত্রে তাদের স্বাক্ষর নেয় তাকে রাশিয়া প্রেরণকারী এজেন্সির লোকজন। গত ২৬ মার্চ তার মায়ের সঙ্গে শেষবারের মতো কথা বলে ইয়াসিন। কয়েকদিনের মধ্যেই ১০ লাখ টাকা পাঠাবে বলে মাকে জানিয়েছিল সে।

নিহত ইয়াসিনের মরদেহের কি অবস্থা, মরদেহ দেশে আনা যাবে কি না তা নিয়ে কোনো তথ্য পাচ্ছে না ইয়াসিনের পরিবার। এ অবস্থায় ছেলের ছবি নিয়ে মায়ের কান্না থামছেই না। শোকে হতবিহ্বল পরিবারের সদস্যরা। এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *