বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩, ২০২৫
বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩, ২০২৫

জামালপুরে জেলের জালে ৪৬ কেজির গাং চ্যালা মাছ

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে আওনা ইউনিয়নের জগন্নাথগঞ্জ পুরাতন ঘাটে যমুনা নদীতে ৪৬ কেজি ওজনের একটি সামুদ্রিক মাছের দেখা মিলেছে। এই মাছটিকে আগে কখনও এ অঞ্চলের মানুষ দেখেনি। মাছটিকে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় সেইল ফিশ বলছেন অনেকে। তবে এটির পিঠে বিশাল আকারের পাখনা থাকায় এটিকে স্থানীয়ভাবে কেউ কেউ পাখি মাছ আবার কেউ বলছে গাং চ্যালা।

শুক্রবার (২০ আগস্ট) সকালে সুরুজ হাওয়ালদার নামে এক ব্যক্তি মাছটি সিরাজগঞ্জ রোড থেকে কিনে আনেন। পরে তিনি স্থানীয়ভাবে এলাকার লোকজনের কাছে ৫০০ টাকা কেজি দরে ২৩ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।

প্রায় নয় ফুট লম্বা মাছটি সিরাজগঞ্জের যমুনা নদী থেকে ধরা পড়ে বলে জানান সুরুজ হাওলাদার। এই সময় নতুন এই মাছটি দেখে উৎসুক অনেকে ভিড় করেন। ব্যবসায়ী শাহীন এত বড় পাখনাওয়ালা মাছ দেখে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘মাছটি আগে কখনও দেখিনি। এটি দেখতে পাখির মতো।’

সুরুজ হাওলাদার জানান, শুক্রবার ভোররাতে রঞ্জিত নামে এক জেলে কয়েকজন সঙ্গী নিয়ে যমুনা নদীতে মাছ ধরতে যান। ২-৩ ঘন্টা পরে জালে বড় কোনও মাছ আটকা পড়েছে বলে ধারণা করেন তিনি। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা সময় নিয়ে জাল টেনে নৌকায় তুলে দেখেন বড় একটি ‘পাখি মাছ’ ধরা পড়েছে। পরে দ্রুত মাছটি নৌকায় তুলে সোজা চলে আসেন মাছবাজারে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবদুল কুদ্দুছ বলেন, ‘মাছটি সামুদ্রিক। বড় পাখনা থাকায় এটিকে পাখি মাছ বলা হয়। বিরল এ মাছ আগে কখনও এ অঞ্চলের মানুষ দেখেনি। এ কারণে মাছটি দেখার জন্য উৎসুক মানুষ ভিড় করেছেন।’

মাছটি সম্পর্কে জানতে ঢাকা মৎস্য অধিদফতরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এস এম মহিব উল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো ছবি দেখে তিনি জানান, মাছটির নাম সেইল ফিশ। সাগরের সবচেয়ে দ্রুতগামী কয়েকটি মাছের মধ্যে এটি একটি। এ মাছ সাড়ে ৩ মিটার পর্যন্ত দীর্ঘ হয়। ওজন ১০০ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। এর একটি পৃষ্ঠীয় পাখনা থাকে, যা অনেক বড় হয়। এতে অন্য কোনও মাছ তাকে দেখতে পায় না। মাছটি সাগর থেকে ভুলক্রমে নদীতে চলে আসতে পারে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *