শুক্রবার, এপ্রিল ৪, ২০২৫
শুক্রবার, এপ্রিল ৪, ২০২৫

করোনায় ৪৪ লাখ ৩৬ হাজার মৃত্যু দেখল বিশ্ব

চলমান মহামারি করোনা ভাইরাসের ভয়াল থাবায় বিশ্বজুড়ে আক্রান্ত হয়ে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমে হ্রাস পাচ্ছে। একই সঙ্গে আগের দিনের তুলনায় উল্লেখ্যযোগ্য হারে কমল প্রাণঘাতী ভাইরাসে সংক্রমিত নতুন রোগীর সংখ্যাও। গেল ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে করোনায় শনাক্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন সাড়ে ৮ হাজারের বেশি মানুষ। একই সময়ে রোগটিতে নতুন করে আক্রান্ত লোকের সংখ্যাও পাঁচ লাখ ৬১ হাজার ছাড়িয়েছে।

সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় সর্বাধিক সংক্রমণ দেখল যুক্তরাষ্ট্র। অন্য দিকে দৈনিক মৃত্যুতে বরাবরের মতো শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়া। আর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ল্যাটিন আমেরিকার দেশ রাশিয়া। এতে বিশ্বব্যাপী করোনায় শনাক্তের সংখ্যা ২১ কোটি ২১ লাখের ঘর ছাড়িয়ে গেছে। অপর দিকে প্রাণ হারানোদের সংখ্যাও ৪৪ লাখ ৩৬ হাজার ছাড়িয়েছে।

রবিবার (২২ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে মৃত্যু, আক্রান্ত ও সুস্থতার হিসাব রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডো মিটারস থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গেল ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে মহামারি করোনার থাবায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন আট হাজার ৬৬১ জন রোগী। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় প্রাণহানি কমেছে প্রায় ১৩৫০ জন। এতে বিশ্বজুড়ে প্রাণ হারানোদের সংখ্যা ৪৪ লাখ ৩৬ হাজার ৬১০ জনে পৌঁছে গেছে।

এছাড়া একই সময়ের মধ্যে প্রাণঘাতী ভাইরাসটিতে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন পাঁচ লাখ ৬১ হাজার ৪৭৭ জন। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় নতুন আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে এক লাখ ২০ হাজারের বেশি। এতে মহামারির শুরু থেকে ভাইরাসটিতে শনাক্ত মোট রোগীর সংখ্যাও বেড়ে ২১ কোটি ২১ লাখ ৪৫ হাজার ১০০ জনে দাঁড়িয়েছে।

গত এক দিনে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের ঘটনা ঘটল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে দেশটিতে নতুন করে করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন ৯০ হাজার ৭৮২ জন। আর মারা গেছেন ৫১৭ জন রোগী। করোনা ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশটিতে এখন পর্যন্ত তিন কোটি ৮৫ লাখ ১৯ হাজার ২৯৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন। আর মৃত্যুবরণ করেছেন ছয় লাখ ৪৪ হাজার ৮৪০ জন।

অপর দিকে গেল ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি দেখল দ্বীপরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়া। একই সময়ের মধ্যে দেশটিতে করোনার ভয়াল থাবায় মারা গেছেন এক হাজার ৩৬১ জন রোগী। এছাড়া নতুন করে করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন ১৬ হাজার ৭৪৪ জন। আর মহামারির শুরু থেকে দেশটিতে মোট সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা ৩৯ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮ জনে দাঁড়িয়েছে। আর মৃত্যু হয়েছে এক লাখ ২৫ হাজার ৩৪২ জনের।

এ দিকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের দিক থেকে তালিকার তৃতীয় ও মৃত্যুর সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ল্যাটিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল। গেল ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে করোনায় সংক্রমিত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ৫৮৫ জন। আর নতুন করে করোনা ভাইরাসে শনাক্ত হয়েছেন ২৮ হাজার ৩৮৮ জন। অপর দিকে মহামারির শুরু থেকে দেশটিতে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দুই কোটি ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৪৮৭ জন ছাড়িয়ে গেছে। আর মৃত্যু হয়েছে পাঁচ লাখ ৭৪ হাজার ২৪৩ জন করোনা রোগীর।

করোনায় আক্রান্তের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ দেশ ভারত। তবে প্রাণঘাতী ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হয়ে মৃতের সংখ্যার তালিকায় দেশটির অবস্থান এখন তৃতীয়। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে করোনার থাবায় সংক্রমিত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ৪০১ জন। আর নতুন করে করোনা ভাইরাসে শনাক্ত হয়েছেন ৩১ হাজার ৪৩ জন। দেশটিতে মোট আক্রান্ত তিন কোটি ২৪ লাখ ২৩ হাজার ৫৪৯ জন। আর মৃত্যুবরণ করেছেন চার লাখ ৩৪ হাজার ৩৯৯ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৫৪৪ জন। নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে দেশটিতে নতুন করে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ২৪ হাজার ১৭৯ জন। মহামারি করোনা ভাইরাসের শুরু থেকে দেশটিতে এরই মধ্যে ৪৬ লাখ ৪০ হাজার ৬৯৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। আর মারা গেছেন এক লাখ এক হাজার ৩৫৪ জন।

এছাড়া এখন পর্যন্ত ফ্রান্সে ৬৬ লাখ দুই হাজার ৩১১ জন, আর ৬৭ লাখ ২৬ হাজার ৫২৩ জন রাশিয়ায়, এছাড়া যুক্তরাজ্যে ৬৪ লাখ ৬০ হাজার ৯৩০ জন, ইউরোপের দেশ ইতালিতে ৪৪ লাখ ৭৮ হাজার ৬৯১ জন, মুসলিম রাষ্ট্র তুরস্কে ৬১ লাখ ৯৭ হাজার ৪১ জন, আর ৪৭ লাখ ৭০ হাজার ৪৫৩ জন স্পেনে, এমনকি জার্মানিতে ৩৮ লাখ ৭০ হাজার ৭৬ জন এবং ৩১ লাখ ৯৭ হাজার ১০৮ জন মেক্সিকোতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

অপর দিকে করোনায় সংক্রমিত হয়ে এখন পর্যন্ত এক লাখ ১৩ হাজার ২৬৭ জন ফ্রান্সে, আর রাশিয়ায় এক লাখ ৭৫ হাজার ২৮২ জন, এছাড়া এক লাখ ৩১ হাজার ৫৯১ জন যুক্তরাজ্যে, তুরস্কে ৫৪ হাজার ৩২৭ জন, ইতালিতে এক লাখ ২৮ হাজার ৭২৮ জন, জার্মানিতে ৯২ হাজার ৪৭৩ জন স্পেনে ৮৩ হাজার ১৩৬ জন এবং দুই লাখ ৫২ হাজার ৮০ জন মেক্সিকোতে মৃত্যুবরণ করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর গত বছরের ১১ মার্চ প্রাণঘাতী ভাইরাসটিকে ‘বৈশ্বিক মহামারি’ হিসেবে ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এর আগে একই বছরের ২০ জানুয়ারি সংস্থাটি বিশ্বজুড়ে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *