করোনায় আক্রান্ত-মৃত্যু কমল বিশ্বে
গেল ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বিশ্বজুড়ে কমল মহামারি করোনা ভাইরাসের ভয়াল থাবায় আক্রান্ত ও প্রাণ হারানো মানুষের সংখ্যা। প্রাণঘাতী ভাইরাসটির সংক্রমণ শুরুর পর থেকে এ রোগে দৈনিক মৃত্যু, আক্রান্ত ও সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তিদের সংখ্যা প্রকাশকারী ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডো মিটারস তথ্যটি জানিয়েছে।
ওয়ার্ল্ডো মিটারসের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা পর্যন্ত বিশ্বে কোভিড সংক্রমিত হয়েছেন চার লাখ ২৫ হাজার ৬১৯ জন। আর প্রাণঘাতী এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ছয় হাজার ৬০২ জন। আগের দিন রবিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভাইরাসটিতে নতুন আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল চার লাখ ৮৬ হাজার ১২২ জন। আর মৃতের সংখ্যা ছিল সাত হাজার ৯১৩।
অর্থাৎ রবিবার থেকে সোমবার – এক দিনের ব্যবধানে বিশ্বে করোনায় সংক্রমিতের সংখ্যা কমল ৬০ হাজার ৫০৩ জন। এছাড়া মৃতের সংখ্যা কমেছে এক হাজার ৩১১ জন।
নির্ধারিত এই সময়সীমার মধ্যে কমেছে সুস্থতার হারও। রবিবার গোটা দিনে করোনা থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন চার লাখ ৩৫ হাজার ৪৯৪ জন। আগের দিন শনিবার এই সংখ্যা ছিল চার লাখ ৮০ হাজার ২৪৯ জন। গেল ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বজুড়ে সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তির সংখ্যা হ্রাস পেল ৪৪ হাজার ৬৫৫ জন।
রবিবার করোনায় সর্বোচ্চ সংখ্যক আক্রান্তের ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ এশিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ দেশ ভারতে। প্রাণঘাতী এ রোগে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে রাশিয়ায়। ভারতে এই দিন কোভিড আক্রান্ত হয়েছেন ৩৯ হাজার ৫২১ জন। এছাড়া মৃত্যু হয়েছে ২১৮ জনের।
অপর দিকে একই দিন রাশিয়ায় করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৭৯৩ জন। আর রোগটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ১৮ হাজার ৬৪৫ জন।
এমন পরিস্থিতিতে অন্যান্য যেসব দেশে করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বেশি দেখা গেছে। সে দেশসমূহ হলো- শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ব্যতীত অন্যান্য যেসব দেশে করোনায় নতুন সংক্রমিত রোগী ও মৃত্যুতে উচ্চহার লক্ষ্য করা গেছেন সে দেশসমূহ হলো – যুক্তরাজ্য (নতুন শনাক্ত ৩৭ হাজার ১১, মৃত্যু ৬৮), যুক্তরাষ্ট্র (নতুন শনাক্ত ৩৫ হাজার ৫৭৪, মৃত্যু ৩৬৭), ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান (নতুন শনাক্ত ২৫ হাজার ৮৭০, আর মৃত্যু ৬১০), দ্বীপরাষ্ট্র ফিলিপাইন (নতুন শনাক্ত ২০ হাজার ১৯, এছাড়া মৃত্যু ১৭৩), মালয়েশিয়া (নতুন সংক্রমিত ২০ হাজার ৩৯৬, আর মৃত্যু ৩৩৬) এবং মুসলিম রাষ্ট্র তুরস্ক (নয়া আক্রান্ত ১৯ হাজার ৩৯১, এছাড়া মৃত্যু ২৬৯)।
বিশ্বে বর্তমানে সক্রিয় কোভিড রোগী আছেন এক কোটি ৮৯ লাখ ৩০ হাজার ৫৫৮ জন। এই রোগীদের মধ্যে ভাইরাসটির মৃদু উপসর্গ বহন করছেন মোট এক কোটি ৮৮ লাখ ২৫ হাজার ৬৪ মানুষ। আর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে আছেন এক লাখ পাঁচ হাজার ৪৯৪ জন।
ওয়ার্ল্ডো মিটারসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মহামারি শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে করোনার থাবায় আক্রান্ত হয়েছেন মোট ২২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ৩৮৩ জন। আর মৃত্যুবরণ করেছেন মোট ৪৫ লাখ ৮১ হাজার ২৮৬ জন।
এর পাশাপাশি সাড়া বিশ্বে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়ে উঠেছেন মোট ১৯ কোটি ৮০ লাখ ছয় হাজার ৫৫৭ জন।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে বিশ্বের প্রথম করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়। করোনায় প্রথম মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছিল এশিয়ার পরাশক্তি চীনে।
তারপর অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রাণঘাতী ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। যে কারণে পরিস্থিতি সামাল দিতে ২০২০ সালের ২০ জানুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বিশ্বজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। কিন্তু এতেও রোগটির সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না আসায় শেষ পর্যন্ত ওই বছর ১১ মার্চ কোভিডকে বৈশ্বিক মহামারি হিসেবে ঘোষণা করে সংস্থাটি।