বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩, ২০২৫
বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩, ২০২৫

ঈশ্বরগঞ্জে ভারী বর্ষণে ভেঙে পড়ল বেইলি ব্রিজ

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ভারী বর্ষণে একটি বেইলি ব্রিজ ভেঙে পড়েছে। উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের উচাখিলা বাজার থেকে মরিচারচর গ্রাম হয়ে ফাতেমা নগর কালিরবাজার ঘাট পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়কে চর আলগী বটতলা নামক এলাকার ওই ব্রিজটি ভেঙে পড়ায় চরম বিপাকে পড়েছে ১৪ গ্রামের প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ। বুধবার (২১ আগস্ট) ভোরে ব্রিজটি ভেঙে পড়ে।

স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) রাতে ভারী বৃষ্টিপাত হয়। এতে বুধবার ভোরে বেইলি ব্রিজের নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ার ব্রিজটি ভেঙে পড়ে যায়। উচাখিলা বাজারের পশ্চিম দিকে একটু সামনে এগোতেই বটতলা মোড় সংলগ্ন বেইলি ব্রিজটি ভেঙে সড়কের দুই পাশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এতে উচাখিলা মরিচারচর, চরআলগী, টান পাড়া, টান মলামারি, নামা মলামারি, কান্দা, বড়ইকান্দি, মাঠপাড়া, মাইজ পাড়া ও হাশের আলগীসহ প্রায় ১৪ গ্রামের মানুষের সড়ক যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে মানুষ। ঈশ্বরগঞ্জ, উচাখিলা, রাজিবপুর এবং ব্রহ্মপুত্র নদ পার হয়ে ত্রিশাল, কালীবাজার ও ময়মনসিংহে প্রতিদিন প্রায় ৩৫ হাজারেরও বেশি মানুষ যাতায়াত করেন এই সড়ক দিয়ে।

চর আলগী গ্রামের ফারুক মিয়া (৪০) বলেন, এই রাস্তা দিয়ে দৈনিক হাজার হাজার লোক, ৫০০ থেকে ৬০০ অটোরিকশা, সিএনজিসহ স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা যাতায়াত করে। আমরা উচাখিলা ও ঈশ্বরগঞ্জ বাজারে কৃষিপণ্য বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করি। ব্রিজটি ভেঙে পড়ায় আমরা খুব খারাপ অবস্থায় আছি। আশপাশের ১৪ গ্রামের প্রায় হাজার হাজার লোক এতে গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে। সরকারের কাছে দাবি আমাদের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ব্রিজটি যেন দ্রুত মেরামত করে দেওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হাই বলেন, ভারী বর্ষণে প্রবল স্রোতে ব্রিজের দুই পাশ থেকে মাটি সরে গিয়েছিল। এছাড়া ব্রিজটি দীর্ঘদিনের পুরোনো। যে কারণে মাটি সরে যাওয়াতে ভেঙে গেছে। এতে এলাকাবাসী চরম বিপাকে পড়েছে।

এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী আয়েশা আক্তার বলেন, এই বেইলি ব্রিজটি আমাদের না, এটা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ঈশ্বরগঞ্জের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুস সালাম বলেন, এই ব্রিজটি আমাদের না এটা হলো ময়মনসিংহ জেলার অধীনে।

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সারমিনা সাত্তার বলেন, দুর্ভোগ নিরসনের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে কিছু করা যায় কিনা এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলীকে বলা হয়েছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *