সংবাদ শিরোনাম

 

ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল সীমান্তবর্তী গাজা উপত্যকা আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। গাজা উপত্যকাভিত্তিক কট্টরপন্থী সংগঠন হামাস গতকাল শনিবার ইসরায়েলে নজিরবিহীন হামলা চালিয়েছে। হামাসের হামলায় বাংলাদেশ সময় শনিবার মধ্যরাত পর্যন্ত ইসরায়েলের ভেতরে ২০০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। জবাবে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২৩২ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।
বিসিসি, এএফপি, আলজাজিরাসহ আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো এসব খবর দিয়েছে।

এই হামলার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। তিনি ফিলিস্তিনির বিপক্ষে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করেছন।

রকেট হামলার পাশাপাশি হামাসের বেশ কিছু সশস্ত্র সদস্য তাদের নিয়ন্ত্রিত গাজা উপত্যকার পাশের ইসরায়েলি জনপদে ঢুকে পড়ে হামলা চালা। তারা সেনাসহ বেশ কয়েকজন ইসরায়েলিকে জিম্মি করারও দাবি করেছে।

 

 

 

ইসরায়েলি বাহিনী নাগরিক জিম্মি হওয়ার কথা স্বীকার করলেও মেজর জেনারেল পদের সেনা কর্মকর্তাকে আটকের কথা সত্য নয় বলে দাবি করেছে। হামাস বলেছে, তারা ইসরায়েলে পাঁচ হাজার রকেট নিক্ষেপ করেছে।

এদিকে গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ২৩২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং এক হাজার ৭৯০ জন আহত হয়েছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

বিমান হামলায় গাজার ‘প্যালেস্টাইন টাওয়ার’ নামের ১১ তলা ভবনসহ বহু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবনটির ছাদে হামাসের বেতারকেন্দ্র ও একটি সিনেমা হল ছিল। বিমান হামলার কিছু পরই এটি ধসে পড়ে।

ইসরায়েলি পক্ষে প্রায় এক হাজার লোক আহত হয়ে হাসপাতালে আছে বলে গতকাল রাতে জানানো হয়। হামাস বলেছে, ‘যথেষ্ট হয়েছে। আর না’—এই নীতিতে তারা ইসরায়েলি দখলদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছে।

 

স্থানীয় সময় শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা থেকে একের পর এক রকেট ছুড়তে থাকে হামাস। তেল আবিব, জেরুজালেমসহ বেশ কয়েকটি ইসরায়েলি শহরকে লক্ষ্য করে কয়েক হাজার রকেট ছোড়া হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু রকেট আয়রন ডোম প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করে বেশ কয়েকটি ভবনে আঘাত হানে।

হামাসের যোদ্ধারা গাড়ি, নৌযান ও মোটরচালিত প্যারাগ্লাইডার ব্যবহার করে স্থল, জল ও আকাশপথে গাজার পাশের ইসরায়েলি শহর ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এ সময় ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে তাদের বেশ কিছু জায়গায় বন্দুকযুদ্ধ হয়। আতঙ্কিত ইসরায়েলিরা এ সময় বাংকারে আশ্রয় নেয়।

 

বেশ কয়েকজন ইসরায়েলিকে বন্দি করার দাবি করেছে হামাস। এসংক্রান্ত একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে গোষ্ঠীটি। এতে তিনজন বেসামরিক লোককে দেখা গেছে।

একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হামাসের কয়েকজন সশস্ত্র যোদ্ধা ইসরায়েলি শহরের রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে পশ্চিম তীরের প্রতিরোধযোদ্ধাদের পাশাপাশি আরব ও ইসলামী রাষ্ট্রগুলোকে এই যুদ্ধে শরিক হওয়ার আহবান জানিয়েছে হামাস।

 

হামাসের হামলার নিন্দা জানিয়েছে ইসরায়েলের অন্যতম প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্র। এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস বলেছে—আমরা ইসরায়েল সরকার ও জনগণের সঙ্গে আছি।

মার্কিন সামরিক প্রধান লয়েড অস্টিন বলেছেন, সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদ থেকে নাগরিকদের রক্ষার জন্য ইসরায়েলকে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে কাজ করবে প্রতিরক্ষা বিভাগ।

ইসরায়েলের মিত্র ন্যাটো জোট ও ইউরোপীয় কমিশন এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ন্যাটো বলেছে, ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে।

 

 

এ ছাড়া যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইউক্রেন, চেক প্রজাতন্ত্র, বেলজিয়াম, ইতালি, জাপান, পোল্যান্ড ও স্পেন হামাসের হামলার নিন্দা জানিয়েছে।

ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে থাকা সৌদি আরব ও মিসর অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। এ ছাড়া রাশিয়াও সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধান শত্রু ইরান হামাসের হামলায় সমর্থন দিয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা রহিম সাফাভি বলেছেন, ‘আমরা ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের অভিনন্দন জানাচ্ছি। ফিলিস্তিন ও জেরুজালেম স্বাধীন না হওয়া পর্যন্ত আমরা তাদের সঙ্গে আছি। ’

 


মতামত জানান :

 
 
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম