সংবাদ শিরোনাম

 

 

রোহিত শর্মার চওড়া ব্যাটের সামনে আফগান বোলাররা দাঁড়াতেই পারেনি। তাতে ভারতের বিপক্ষে রেকর্ড ২৭২ রান করেও জয়তো দূরে থাক, স্রেফ উড়ে গেছে আফগানিস্তান। রোহিত শর্মার ১৩১ রানের ঝড়ো ইনিংসে ভারত ৮ উইকেটে আফগানিস্তানকে হারিয়ে বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে। আফগান হেরেছে টানা দ্বিতীয় ম্যাচ।

 

দিল্লির অরুণ জেটলি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ভারতকে মোটামুটি ভালোই লক্ষ্য দিয়েছিল আফগানিস্তান। আফগানদের যেমন বোলিং আক্রমণ, তাতে করে ২৭৩ রান সহজ হওয়ার কথা নয়। কিন্তু ভারতের দুই ওপেনার রোহিত শর্মা ও ইশান কিশান মিলে ম্যাচটা একপেশে করে ছাড়েন। গড়েন ১৫৬ রানের জুটি। এই জুটিতেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় আফগানরা। ইশান ৪৭ রান করে আউট হলেও রোহিত হতে থাকেন আরও ভয়ঙ্কর। হিটম্যান সুলভ ইনিংসে ৬৩ বলে ছুঁয়েছেন সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত রশিদের ঘূর্ণিতে ১৩১ রানে থেমেছেন। ততক্ষণে ম্যাচটা পুরোপুরি নিজেদের করে নিতে অবদান রাখেন তিনি। রশিদ খানের ঘূর্ণিতে পরাস্ত হওয়ার আগে ৮৪ বলে ১৬ চার ও ৫ ছক্কায় নিজের ইনিংসটি সাজিয়েছেন ভারতের অধিনায়ক। জিতেছেন ম্যাচসেরার পুরস্কার।

 

রোহিত আউট হওয়ার পর বাকি পথটুকু অনায়াসেই পাড়ি দেন বিরাট কোহলি ও শ্রেয়াস আইয়ার। মিড অন দিয়ে দারুণ এক ড্রাইভে চার মেরে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে গেছেন কোহলি। তৃতীয় উইকেটে কোহলি-আইয়ারের অবিচ্ছিন্ন ৬৮ রানের জুটিতে ২ উইকেট হারিয়েই দুর্দান্ত এক জয় পেয়েছে স্বাগতিক দল। ৫৫ বলে হাফ সেঞ্চুরি ছোঁয়া কোহলি ৫৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। ৫৬ বলে ৬ চারে তিনি তার ইনিংসটি সাজিয়েছেন। এছাড়া ২৩ বলে ২৫ রানে অপরাজিত থাকেন আইয়ার।

আফগানদের বোলারদের মধ্যে লেগ স্পিনার রশিদ খান দুটি উইকেট নিয়েছেন।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিং করেছে আফগানিস্তান। দুই ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরান ভালোভাবেই এগোচ্ছিলেন। তবে প্রথম ১০ ওভারের আগেই ভেঙে যায় আফগানদের ওপেনিং জুটি। সপ্তম ওভারের চতুর্থ বলে জসপ্রীত বুমরাকে খোঁচা দিতে গিয়ে ২৮ বলে ৪ চারে ২২ রান করে বিদায় নেন ইব্রাহিম। এরপর দ্রুত আরও দুই উইকেট পড়লে খেই হারায় আফগানরা। ৬৩ রানে তিন উইকেট হারনোর পর চতুর্থ উইকেটে আজমতউল্লাহ ওমরজাই ও অধিনায়ক হাসমতউল্লাহ শাহীদী ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেছেন। ভারতীয় বোলারদের বেশ সাবলীলভাবেই খেলতে থাকেন দুই ব্যাটার।

 

১২৮ বলে ১২১ রানের জুটির পর ওমরজাইকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন হার্দিক পান্ডিয়া। ওমরজাই ৬৯ বলে ২ চার ও ৪ ছক্কায় সাজান নিজের ৬২ রানের ইনিংস। ওমরজাইয়ের বিদায়ের পর উইকেটে আসেন মোহাম্মদ নবী। নবীকে নিয়ে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন শাহডদী। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি তো বটেই, বিশ্বকাপ ইতিহাসে আফগানদের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান হতে পারতেন তিনি। কিন্তু ৮০ রানের মাথায় কুলদীপকে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে এলবিডাব্লিউর শিকার হন আফগান অধিনায়ক। তাতে ৮৮ বলে ৮ চার ও ১ ছক্কায় সাজানো শহীদীর লড়াকু ৮০ ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে। এরপর আফগানিস্তান ৮ উইকেটে ২৭২ রানে থেমেছে। যা ভারতের বিপক্ষে তাদের সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর।

ভারতের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নিয়েছেন বুমরা। ২ উইকেট নিয়েছেন পান্ডিয়া। ১টি করে উইকেট নিয়েছেন শার্দুল ও কুলদীপ।

 


মতামত জানান :

 
 
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম