সংবাদ শিরোনাম

 

ময়মনসিংহে আব্দুর রাজ্জাক রাকিব হত্যাকান্ডে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী ও সর্বস্তরের জনগণ।

 

মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর ৩২ নং ওয়ার্ডের টোল প্লাজা এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে ৫ শতাধিক নারী-পুরুষ ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধন করে। এ সময় নিহতের চাচা মহানগর আওয়ামীলীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক সাগর বলেন, আসামিরা গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরিফ আহমেদের আশ্রয়ে আছে।

 

এ কারনেই রাকিব হত্যার ৪৮ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও পুলিশ রাকিব হত্যার মূল আসামি শাওনসহ জড়িতদের কাউকে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ যদি রাকিব হত্যার মূল আসামিসহ জড়িত অন্যান্যদের গ্রেফতার না করতে পারে, তাহলে আমরা কঠোর আন্দোদোলন করব। আমি একজন আওয়ামীলীগের নিবেদিত কর্মী হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন আমার ভাতিজা রাকিব হত্যার সাথে সকল জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

 

৩২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এমদাদুল হক মন্ডল বলেন, আমরা বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ করি। আওয়ামীলীগের একজন নিবেদিত কর্মী একজন নিরিহ ড্রাইভারের উপর অত্যাচারের প্রতিবাদ করায় রাকিবকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার দিন স্থানীয়রা সড়ক অবরোধ করলে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়ে আশ্বাস দিয়েছিল ২৪ ঘন্টার মধ্যে রাকিব হত্যার সাথে জড়িত আসামিদের গ্রেফতার করা হবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় এখন পর্যন্ত একটি আসামিকেও গ্রেফতার করা হয়নি।

 

একজন প্রতিমন্ত্রীর ছত্রছায়ায় যদি সন্ত্রাসী খুনিরা আশ্রয়-প্রশ্রয় পায়, তাহলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়। আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে রাকিব হত্যার সাথে জড়িত আসামিদের গ্রেফতার করা না হয় তাহলে আমরা রাস্তাঘাট অবরোধ করে অবস্থান ধর্মঘট করব। এছাড়াও মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন- ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এ. বি ছিদ্দিক, ৩২ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আহবায়ক শামসুর রহমান, যুগ্ন আহবায়ক বাবুল, ৩১ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আহবায়ক ওসমান গনি, ৩৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আহবায়ক মোক্তার হোসেন, যুগ্ন আহবায়ক হেলাল, জুটমিল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি নজরুল ইসলাম, নিহতের স্বজন আবু হানিফসহ স্থানীয় রাজনৈতিক, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ প্রমুখ। উল্লেখ্য, গত (১১ নভেম্বর) শনিবার রাত ৮টার দিকে নগরীর চায়না মোড় এলাকায় যুবলীগ নেতা শাওন পারভেজ ও তার সহযোগীরা সাইড না দেওয়ায় এক ট্রাকচালককে মারধর করেন। এ সময় স্থানীয়দের সঙ্গে আব্দুর রাজ্জাক রাকিব তাদের বাধা দেন।

 

পরে তাদের ওপর হামলা করেন শাওনের লোকজন। স্থানীয়রা আব্দুর রাজ্জাক, সাদেক আলী, শহিদ মিয়াকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুর রাজ্জাক রাকিবকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকি দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

 


মতামত জানান :

 
 
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম