সংবাদ শিরোনাম

 

ময়মনসিংহে ঘনকুয়াশা আর প্রচণ্ড শীত প্রভাব ফেলেছে শীতকালীন সবজিতে উৎপাদনে। এতে ছত্রাকসহ নানা রোগবালাইয়ের আক্রমণ বেড়েছে।

এছাড়া উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে পুষ্টিগুণে ভরপুর সবজি টমেটোর উৎপাদন।
শনি ও রোববার (২৭ ও ২৮ জানুয়ারি) ময়মনসিংহ সদর উপজেলাসহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলা ঘুরে এ তথ্য জানা গেছে।

কৃষকরা জানান, ঘনকুয়াশা আর প্রচণ্ড শীতের প্রভাবে টমেটো, শিম, মরিচ, আলু, বেগুন, গাজর, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ডাটা, লাউসহ বিভিন্ন শাক-সবজির উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। চলতি মৌসুমে অন্যান্য বছরের মতো শীতকালীন সবজির ফলন ভালো হলেও ছত্রাকসহ নানা রোগবালাইয়ে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে এসব সবজি ফসল। এরমধ্যে সবজি গাছ মরে যাওয়া, পোকায় আক্রমণ, পাতামরা রোগ দেখা দিয়েছে অনেক স্থানে। সেইসঙ্গে কমেছে টমেটোসহ অন্যান্য সবজির উৎপাদন।

 

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বোররচর ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে শত শত হেক্টর জমিতে টমেটো আবাদ করেছেন কৃষকরা। এতে শুরুর দিকে ফলন ভালো হলেও সাম্প্রতিক প্রচণ্ড শীত ও ঘনকুয়াশায় কমে গেছে উৎপাদন। সেইসঙ্গে টমেটো গাছের বেড়েছে ছত্রাকের আক্রমণ।

তবে দাম ভালো হওয়ায় ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারছেন কৃষকরা। এতে জাত ও মানভেদে প্রতিমণ টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকায়, যা গত বছরের চেয়ে দ্বিগুণ।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, জেলায় চলতি মৌসুমে ২১ হাজার হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। এর মধ্যে দুই হাজার ৩১৮ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে টমেটোর।

স্থানীয় কৃষক মোহাম্মদ আলী জানান, অন্য বছরের তুলনায় এ বছর বাজারে শীতকালীন সবজির দাম বেশি। কিন্তু গত বছর উৎপাদিত টমেটো বিক্রি করে শ্রমিক ও পরিবহন খরচ না পাওয়ায় অধিকাংশ কৃষক জমিতেই টমেটো নষ্ট করে দিয়েছিল। তবে এ বছর উৎপাদিত টমেটো উচ্চমূল্যে বিক্রি করতে পারলেও শীত ও ঘনকুয়াশার কারণে এবার উৎপাদন কমেছে এবং রোগবালাইয়ের আক্রমণও বেড়েছে।

গৌরীপুর উপজেলার ৯ নম্বর ভাংনামারি ইউনিয়নের ভোলার আলগী গ্রামের কৃষক মো. আব্দুল জাব্বার বলেন, এবার বেশি শীতের কারণে অনেক মরিচ ও গাছ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত আমার মতো অনেক চাষি।

ত্রিশাল উপজেলা বালিপাড়া এলাকার কৃষক মো. আরশাদ আলী বলেন, তিন কাঠা জমিতে বেগুন চাষ করেছিলাম। শুরুর দিকে ফলন ভালো হলেও বেশি কুয়াশার কারণে অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেছে। সেইসঙ্গে বেড়েছে ছত্রাকের আক্রমণ।

 

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মোছা. নাছরিন আক্তার বানু বলেন, গত দুইদিন ধরে রোদের দেখা মিলেছে। তবে এবার প্রচণ্ড শীত আর ঘনকুয়াশার কারণে শীতকালীন সবজি ফসলে ছত্রাকসহ নানা ধরনের রোগ বালাই দেখা দিয়েছে। এতে টমেটোসহ অনেক সবজির উৎপাদনও কমেছে। কিন্তু কুয়াশা ও শীত কমে যাওয়ার এই সমস্যা অনেকটাই কেটে গেছে। সেইসঙ্গে রোগ অনুযায়ী কৃষকদের ঔষধ ছিটানোর পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। তবে এই ক্ষতির মাত্রা অনেকটাই সহনীয় বলেও জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।

 


মতামত জানান :

 
 
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম