সংবাদ শিরোনাম

 

 

ময়মনসিংহের ভালুকায় স্কুলে যাওয়ার পথে রাখিয়া সুলতানা রিয়া (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রীকে উপজেলার বাটাজোড় এলাকায় ধানক্ষেতে ফেলে কুপিয়ে হত্যা করেন মুখোশধারী এক যুবক। এ ঘটনার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ওই যুবকের মুখোশ উন্মোচন ও তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, মুখোশধারী সেই ঘাতক নিহত রিয়ার স্বামী রিপন মিয়া। স্ত্রীর প্রতি সন্দেহের বশে এবং বাড়ি থেকে চলে আসায় সৌদি আরব থেকে ফিরেই রিয়াকে হত্যা করেন রিপন।

শনিবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি জানান ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভূঁঞা। এর আগে গতকাল শুক্রবার বিকেলে টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার গোরাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার জানান, এক বছর আগে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার মাওশা গ্রামের মানিক মিয়ার ছেলে প্রবাসী রিপন মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় ভালুকা উপজেলার বাটাজোর গ্রামের আবদুর রশিদের মেয়ে রাখিয়া সুলতানা রিয়ার। সে নবম শ্রেণির ছাত্রী। বিয়ের ১৫ দিন পর রিপন বিদেশ চলে যাওয়ার কিছু দিন পর স্ত্রী রিয়া তার বাবার বাড়ি চলে আসে। এরপর থেকেই তাদের মাঝে বনিবনা হচ্ছিল না। বিদেশে থেকে অনেক চেষ্টা করেও তাকে বাবার বাড়ি থেকে নিজের বাড়িতে আনতে পারেননি প্রবাসী রিপন। কিছু দিন পর রিয়া তার স্বামী রিপনকে জানায়, সে আর তাদের বাড়িতে যাবে না। পরে রিপনের স্ত্রী রিয়া তার সঙ্গে সকল যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। একপর্যায়ে প্রবাসী রিপন রিয়ার স্কুলের সহপাঠীদের মাধ্যমে জানতে পারে যে, রিয়া অন্য একজনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। গত ২ অক্টোবর পরিবারের কাউকে না জানিয়ে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে আসেন রিপন।

পরে তিনি টাঙ্গাইলের সখীপুর পৌরসভা এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে অবস্থান করেন। ঘটনার আগের দিন ৮ অক্টোবর সকালে প্রবাসী রিপন মিয়া বাটাজোর বিএম উচ্চ বিদ্যালয়ের গেটে তার স্ত্রী রিয়াকে অন্য একটি ছেলের সঙ্গে দেখতে পান। এতে রিপন মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে পর দিন সখীপুর বাজার থেকে একটি ধারালো দা কিনে রিয়ার স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে অপেক্ষা করতে থাকেন। ওই দিন দুপুরে পরীক্ষা দিতে স্কুলে যাওয়ার পথে রিয়াকে ধানক্ষেতে ফেলে ধারালো দা দিয়ে মাথা ও ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যান রিপন। পরে তাকে উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। ওইদিন রাতেই রিয়ার বাবা আব্দুর রশিদ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে ভালুকা মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

রিয়ার বাবা আব্দুর রশিদ বলেন, বিয়ের ১৫ দিন পর রিয়ার স্বামী রিপন সৌদি আরব চলে যায়। এরপর রিয়ার ওপর শ্বশুরবাড়ির লোকজন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়। ছয় মাস আগে রিয়াকে আমার বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে আসি। অল্প বয়সে না বুঝে মেয়েকে বিয়ে দিয়েছিলাম। আমার মেয়ে কিছুদিন বিরতি দিয়ে আবার পড়ালেখা শুরু করেছিল। কিন্তু আমার মেয়েটিকে ওরা বাঁচতে দিল না। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীর ফাঁসি চাই।

এদিকে বিকেলে এ ঘটনায় প্রবাসী রিপন তার স্ত্রীকে হত্যার দায় স্বীকার করে ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভালুকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন।

 


মতামত জানান :

 
 
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম