প্রায় ২ বছর পর খুলে দেওয়া হলো আলাদ্দীন পার্ক
বিশ্বব্যাপী বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে দীর্ঘ প্রায় ২বছর যাবত দিন বন্ধ থাকার পর গত বৃহস্পতি বার স্বাস্থ্যবিধি মেনে সরকারী নিদের্শেই খুলে দেওয়া হচ্ছে ময়মনসিংহ জেলার বৃহত্তর বিনোদন কেন্দ্র ফুলবাড়ীয়া উপজেলার এনায়েতপুরে অবস্থিত আলাদ্দীন পার্কসহ অন্যান্য বিনোদন কেন্দ্র গুলি। দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকায় অধিকাংশ রাইডস গুলি নষ্ট হয়ে গেছে। পিচলে হয়ে গেছে সুন্দর্য বর্ধনের জন্য রোপিত গাছের পাক দিয়ে করা সরু রাস্তা গুলি । খাবারের অভাবে মিনি চিরিয়খানার বাঘের বাচ্চাসহ পশু পাখিগুলি মরে গেছে। ভেঙ্গে গেছে কৃত্রিম ভাবে নিমার্ণ করা পরী, গরুর গাড়ী, পশুপাখি গুলিও। অর্থাভাবে ছ্টাাই করা হচ্ছে কর্মচারী। কয়েক মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে কর্মকর্তা কর্মচারীদেরও। বিদ্যুত বিলও পরিশোধ করছে পারছে না ৬ মাস যাবত। এমনই অবস্থায় সরকারী নির্দেশ স্বাস্ব্যবিধি মেনে সিমিত পরিসরে পার্ক খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তে প্রাণের সংচার ফিরে পেয়েছে। মনের আনন্দে পরিস্কার পরিছন্নের কাজ করছে তারা ।
সরেজমিনে আলাউদ্দীন পার্কে গিয়ে দেখা যায়, পার্কে প্রবেশ মূখে গাড়ী পাকিং এর জায়গায় বড় বড় ঘাস হয়ে জঙ্গলে পরিণত হয়েছে । ভিতরে প্রবেশ করলেই পরী জলাসয়ের পানিতে শ্যাওলা জমে আছে। পার্কেও ভিতর দিয়ে সুন্দর্য বধনের জন্য রোপিত গাছের মাঝখান দিয়ে সরু রাস্তায় শ্যাওলা জমে পিছলে হয়ে গেছে। না থেতে পেয়ে মরে গেছে পার্কের ভিতরের মিনি চিরিয়াখানার মেছো বাঘের ছানাটিসহ শেয়াল, বানর, বনোবিড়ালসহ প্রায় চারশতাধিক নানান প্রজাতীর পাখি।
এছাড়া কৃত্রিমভাবে নির্মাণ করা পরী ,গরুর গাড়ী , সাপ ,কচ্ছপ , ময়ুর বিশাল আকারের হাতী ঘোড়া, জিরাফ , জেব্ররাসহ বিভিন্ন প্রকারের জীবজন্তুর মর্তির অনেক গুলি ভেঙ্গে গেছে। ওয়াটার রাইটএর জলাধারা গুলি পানি না থাকায় জঙ্গলে ভরে গেছে, যেগুলিতে পানি রয়েছে সেগুলি শ্যওলা জমে রং নষ্ট হয়ে গেছে দীর্ঘদিন ব্যবহার না করায় ।
ওয়াটার রাইডের পরিস্কার পরিছন্ন কাজের কর্মরত নাজমুল জানান, দীর্ঘ প্রায় দুইবছর যাবত পার্কটি বন্ধ থাকায় এগুলি প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে , শুনলাম সরকার পার্ক খুলে দিয়েছে তাই তো কয়েকদিন ধরে পরিস্কার করতাছি ।
আলাদ্দীন পার্কের ম্যানেজার আবব্দুর রহমান বলেন , বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের কারনে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিনোদন কেন্দ্র গুলির বিশেষ করে পার্ক মালিকদের । দীর্ঘ প্রায় ২ বছর ধরে পার্ক বন্ধ। কোন ইনকাম নাই তাই তো আমরা ৬ মাস যাবত বিদ্যুত বিল দিতে পারছি না । কর্মচারী ছাটাই করা হয়েছে অনেক । এর পরও কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছি না ৩ মাস যাবত । সরকারের এ সিন্ধান্তকে আমরা সাধুবাদ জানাই । আশা করছি আবারও আগের মতো প্রাণ ফিরে পাবে এ পার্ক। মানুষ বিনোদন করতে পারবে প্রাণ খুলে। সরকার বিনোদন কেন্দ্র খোলে দিবার সিন্ধান্তের খবর পাওয়ার পর থেকেই আমরা ঘষা মাজা, রং এবং পরিস্কার পরিছন্নতা কাজ করছি। সকল প্রকার স্বাস্থ্য বিধি মেনেই আমরা পার্ক খোলা রাখব।
উপজেলার বড়বিলা, রাবার বাগান অর্কিট বাগান দর্শনার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যবিধি ও নিয়মনীতির মাধ্যমে খোলে দেওয়া হয়েছে বলে জানান কতৃপক্ষ।