সংবাদ শিরোনাম

 

 

২৭তম ম্যাচে এসে বিপিএলের কোনও দল দুইশ বা তার বেশি রান করতে পেরেছে। শনিবার রেজা হেনড্রিকস, নুরুল হাসান সোহান ও জিমি নিশামের দারুণ ব্যাটিংয়ে ৩ উইকেট হারিয়ে রংপুর রাইডার্স করে ২১১ রান। ২১২ রানের পাহাড়সম লক্ষ্যে খেলতে নেমে ১৫৮ রানেই থেমে যায় চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। ৫৩ রানের জয় তুলে নিয়ে ১২ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান সুসংহত করলো রংপুর। এই জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান নিউজিল্যান্ডের অলরাউন্ডার নিশামের। আজই প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে দলের জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন তিনি। যেন আসলেন, দেখলেন এবং জয় করলেন!

মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে চট্টগ্রামের জন্য লক্ষ্যটা কঠিনই ছিল। ৫০ রানে টপ অর্ডার তিন ব্যাটারকে হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় তারা। চতুর্থ উইকেটে অবশ্য কার্টিস ক্যাম্ফার ও সৈকত আলী মিলে প্রতিরোধ গড়েন। শুরুতে অস্বস্তি নিয়ে ব্যাটিং করলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে হাত খুলে খেলতে থাকেন সৈকত। ৪৫ বলে ৬৩ রানের ইনিংস খেলে দুর্ভাগ্যজনক রান আউটের শিকার হন এই ব্যাটার।

ভালো প্রতিরোধের পরও শুরুর ছন্দহীন ব্যাটিংয়ে অনেকটাই ছিটকে গিয়েছিল চট্টগ্রাম। ফলে রানের চাপ বাড়তে থাকলে একের পর এক উইকেট যেতে থাকে। শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেট হারিয়ে ১৫৮ রান তোলে তারা। সৈকতের পর দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান আসে শুভাগত হোমের ব্যাট থেকে। চট্টগ্রামের অধিনায়ক ১৩ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় খেলেন অপরাজিত ৩১ রানের ইনিংস।

দারুণ ব্যাটিংয়ের পর বল হাতেও আলো ছড়িয়েছেন নিশাম। ৩২ রানে তার শিকার দুটি উইকেট। এছাড়া সাকিব ২৪ রান খরচায় তুলে নেন দুটি উইকেট। দক্ষিণ আফ্রিকার লেগ স্পিনার ইমরান তাহির নেন একটি উইকেট।

এর আগে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে দারুণ শুরু করে রংপুর। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে বিনা উইকেট হারিয়ে তারা তুলে ফেলে ৫২ রান। সপ্তম ওভারের শেষ বলে রনি তালুকদার (২৪) যখন আউট হন, তখন দলীয় সংগ্রহ ৬১। আগের ম্যাচে ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দেওয়া সাকিব আজও দারুণ ব্যাটিং করেছেন। তবে ইনিংসটাকে বড় করতে পারেননি তিনি। হেনড্রিকসের সঙ্গে ৩২ বলে ৬০ রানের জুটি গড়ে আউট হন বাঁহাতি এই ব্যাটার। ১৬ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ২৭ রানের ইনিংস খেলেন সাকিব।

সাকিবের বিদায়ের পর স্কোরবোর্ডে আরও ১ রান যোগ হতেই আউট হন প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা হেনড্রিকস। আউট হওয়ার আগে অবশ্য রংপুরের স্কোরকে দুইশো পেরুতে ভূমিকা রেখেছেন তিনি। ৪১ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় সাজান নিজের ৫৮ রানের ইনিংস। তবে চলতি আসরে প্রথম দুইশ পার করতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে সোহান ও নিশামের ৪৬ বলে অবিচ্ছিন্ন ৮৯ রানের জুটি। তবে দুজনই চট্টগ্রামের ফিল্ডারদের পিচ্ছিল হাতের সুযোগ নিয়েছেন। ১ রানে জীবন পাওয়া সোহান খেলেছেন ২১ বলে ৩১ রানের ইনিংস। অন্যদিকে ৯ রানে জীবন পাওয়া নিশাম শেষ বলে ছক্কা মেরে হাফ সেঞ্চুরিতে পৌঁছেছেন। ২৬ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৫১ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তাদের দুজনের এই জুটিতেই বিপিএলের দশম আসরে প্রথমবার দুইশর বেশি রানের দলীয় ইনিংস দেখা গেলো।

চট্টগ্রামের বোলারদের মধ্যে সালাউদ্দিন শাকিল ১৫ রানে দুটি এবং নিহাদুজ্জামান ২ রানে একটি উইকেট নেন।

 


মতামত জানান :

 
 
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম