সংবাদ শিরোনাম

 

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘জাতীয় পার্টির নিজস্ব চাওয়া আছে। তাদের নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। সেসব আসনে নৌকার প্রার্থী থাকবে না।’

রোববার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুরে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় পার্টির সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের সাথে তাদের সমঝোতা চলছে। এখানে কোনো অশোভন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। শুধু আসন ভাগাভাগির বিষয় নয়। বিএনপি নির্বাচন প্রতিহতের ডাক দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে যারা নির্বাচন করতে চায় সেসব সম্ভাবনাময় দলের মধ্যে একটা ঐক্য থাকা প্রয়োজন। এসব নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। তবে, আমরা একটা সমঝোতা করতে পারি— এমন ধারণা জাতীয় পার্টিকে দিয়েছে। সবকিছুর ফাইনাল বিকাল ৪টার মধ্যে হয়ে যাবে।’’

 

আসন সমঝোতা নিয়ে জাতীয় পার্টি সন্তুষ্ট কি না— জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের সাথে তাদের কথা হচ্ছে। তারা ক্ষুব্ধ হয়েছে বলে জানা নেই। তাদের আসন বাড়ানোর দাবি থাকতেই পারে। যেসব আসনে আমরা সমঝোতা করব, সেসব আসনে আমাদের নৌকার প্রার্থীকে প্রত্যাহার করা হবে।’

শরিকদের সাতটির বেশি আসন দেওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না— জবাবে তিনি বলেন, ‘সেটা শরিকদের সাথে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত হবে।’

আসন সমঝোতার মাধ্যমে কীভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হবে— প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, নৌকার প্রার্থী তুলে নিলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী সব আসনেই থাকছে। তারা কি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নয়? নৌকা না থাকলেও ২৮টি দল তো নির্বাচনে থাকছে।

 

আসন সমঝোতা না হলে জাতীয় পার্টির নির্বাচন থেকে সরে যাবে কি না— উত্তরে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমার মনে হয় না জাতীয় পার্টি নির্বাচন থেকে সরে যাবে। তারা নির্বাচন করবে, এটা তাদের সিদ্ধান্ত। সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবে কি না, আমার জানা নেই।’

‘বিজয়ের দিনকে উপহাস করেছে বিএনপি’— অভিযোগ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘পৃথিবীতে একটা দেশ দেখান যেখানে সরকার পদত্যাগ করে নির্বাচন হয়েছে। ক্ষমতাসীন সরকার থাকবে না, এটা কোথা থেকে আবিষ্কার করলেন? বিজয়ের দিনকে উপহাস করে পরাজয়ের দিন বলছেন। ৭১-এর পরাজয় তো আপনাদের আর জামায়াতের। ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানের দর্শকদের পরাজয় হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে যারা বিশ্বাস করে তাদের জন্য এটা বিজয়ের দিন।’

 

বিএনপি মানুষের জন্য রাজনীতি করে না— মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, “তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। তাদের গণতন্ত্রচর্চার ইতিহাস আমরা জানি। ১৫ ফেব্রুয়ারি মার্কা নির্বাচন, এক কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার তৈরি, জিয়ার ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট, ঢাকা-১০ ও মাগুরার প্রহসনমূলক নির্বাচন— এগুলো তো বিএনপির সৃষ্টি। বিএনপি আবার সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলে কোন মুখে? তাদের শাসনামলে কোন নির্বাচন সুষ্ঠু করেছে? এ দেশে আওয়ামী লীগই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছে।”

‘আওয়ামী লীগ নির্বাচন কমিশনকে একটা স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলেছে। সেই স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের অধীনেই নির্বাচন হচ্ছে। এতে তাদের গাত্রদাহ হচ্ছে কেন?’

 

‘নির্বাচন কমিশনের সাথে আমাদের নির্বাচনী কার্যক্রম চলছে। আজ এটা (প্রার্থিতা) প্রত্যাহারের শেষ দিন। আরপিও বিধি অনুযায়ী প্রার্থিতা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছি। সবকিছু যথারীতি এগিয়ে চলছে। বিএনপির নেতৃত্বে কয়েকটি দল নির্বাচনকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভাগাভাগি নির্বাচন বলছে। যে নির্বাচনে ২৮টি দলের দুই হাজার ২৬০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে, সেই নির্বাচন কি করে ভাগাভাগি নির্বাচন হয়?’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনকে নিয়ে বিএনপি সারা দেশে নাশকতা করছে। তারা বাধা দেবে কিন্তু নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হবে না। এটা আমাদের অঙ্গীকার।

 

বিএনপির নেতাদের জেলে রেখে সরকার নির্বাচন করছে— এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তারা ৩৪ জন সাংবাদিককে পিটিয়ে আহত করেছে। একজন পুলিশকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। তাদের কি বিচার হবে না? সেটার কি মামলা হবে না।’

 

সোমবার বিএনপির ডাকা হরতাল প্রসঙ্গে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘তারা তো হরতাল-অবরোধ ডেকেই যাচ্ছে। এখানে আমাদের কিছুই করার নেই। এগুলো নির্বাচন কমিশনকে জিজ্ঞাসা করেন। আওয়ামী লীগ তো নির্বাচনের আচরণবিধি মেনে চলছে। আমরা ১৬ তারিখ (ডিসেম্বর) বিজয় মিছিল না করে সেটা ১৮ তারিখে নিয়েছি। তারা তো প্রতিদিনই ট্রেনে-বাসে আগুন দিচ্ছে। এমনকি গাজীপুরে গ্যাস লাইন পর্যন্ত কেটে দিয়েছে।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

 


মতামত জানান :

 
 
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম