সংবাদ শিরোনাম

 

 

শাদাব খান, ইফতেখার আহমেদ ও শাহিন শাহ আফ্রিদির নৈপুন্যে টি-টোয়েন্টি বিশ^কাপে সেমিফাইনালে খেলার আশা বাঁচিয়ে রাখলো পাকিস্তান।
আজ সুপার টুয়েলভে গ্রুপ-২এ নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে পাকিস্তান বৃষ্টি আইনে ৩৩ রানে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। এই জয়ে ৪ খেলায় ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয়স্থানে উঠলো পাকিস্তান। সমানসংখ্যক ম্যাচে ৪ পয়েন্ট রয়েছে বাংলাদেশেরও। তবে রান রেটে পিছিয়ে চতুর্থস্থানে বাংলাদেশ। ৪ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ভারত। ৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয়স্থানে দক্ষিণ আফ্রিকা।

 

 

টুর্নামেন্টে সেমির টিকেট পেতে শেষ রাউন্ডে বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় পাওয়া ছাড়া অন্য কোন পথ খোলা নেই পাকিস্তানের সামনে। সেই সাথে শেষ রাউন্ডে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে একটিকে নিজ-নিজ ম্যাচে হারতে হবে। ভারত হারলে, তখন রান রেটের হিসেবে বসতে হবে পাকিস্তানকে। ভারতের চেয়ে রান রেটে এগিয়ে পাকিস্তান। শেষ ম্যাচে ভারত খেলবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।
নিজেদের গুরুত্বপুর্ন ম্যাচে আজ সিডনিতে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামে পাকিস্তান। প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় তারা। ৪ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার ওয়েন পারনেলের বলে আউট হন মোহাম্মদ রিজওয়ান।

প্রথমবারের মত বিশ^কাপে খেলতে নামা মোহাম্মদ হারিসের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে শুরুর ধাক্কাটা সামলে উঠে পাকিস্তান। পঞ্চম ওভারে হারিসকে শিকার করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ব্রেক-থ্রু এনে দেন পেসার এনরিচ নর্টি। ১১ বলে ২টি চার ও ৩টি ছক্কায় ২৮ রান করেন ইনজুরি আক্রান্ত ফখর জামানের জায়গায় দলে সুযোগ পাওয়া হারিস।

দলীয় ৩৮ রানে হারিসের বিদায়ের পর দ্রুত আরও ২ উইকেট হারায় পাকিস্তান। পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজমকে শিকার করেন লুঙ্গি এনগিডি। ১৫ বলে ৬ রান করেন বাবর। শান মাসুদকে ২ রানে বিদায় করেন নর্টি।
৪৩ রানে চতুর্থ উইকেট হারিয়ে মহা চাপে পড়ে পাকিস্তান। এ অবস্থায় দলের হাল ধরে পঞ্চম উইকেটে ৩৯ বলে ৫২ রান তুলেন মোহাম্মদ নাওয়াজ ও ইফতেখার আহমেদ। ২২ বলে ২৮ রান করা নাওয়াজকে শিকার করে জুটি ভাঙ্গেন দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনার তাবরাইজ শামসি।

নাওয়াজ ফেরার পর ক্রিজে ইফতেখারের সঙ্গী হন শাদাব। ব্যাট হাতে নেমেই ঝড় তুলেন শাদাব। মাত্র ২০ বলে টি-টোয়েন্টিতে প্রথম হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। হাফ-সেঞ্চুরির পর ১৯তম ওভারে শাদাবকে থামান নর্টি। ৩টি চার ও ৪টি ছক্কায় ২২ বলে ৫২ রান করেন শাদাব। ষষ্ঠ উইকেটে ইফতেখারের সাথে ৩৬ বলে ৮২ রান যোগ করেন শাদাব।

শেষ ২ ওভারে চার উইকেট হারালেও, শাদাব-ইফতেখারের ব্যাটিংয়ে ২০ ওভারে ৯ উইকেট ১৮৫ রানের বড় সংগ্রহ পায় পাকিস্তান। ৩টি চার ও ২টি ছয়ে ৩৫ বলে ৫১ রান করেন ইফতেখার। বল হাতে দক্ষিণ আফ্রিকার নর্টি ৪১ রানে ৪ উইকেট নেন।
১৮৬ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে পাকিস্তানের পেসার আফ্রিদির তোপের মুখে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৬ রানে ২ উইকেট হারায় তারা। কুইন্টন ডি কক শূন্য ও রিলি রুশো ৭ রান করে আফ্রিদির শিকার হন।

অধিনায়ক তেম্বা বাভুমার মারমুখী ব্যাটিংয়ে পাওয়ার-প্লেতে ৪৮ রান পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। অষ্টম ওভারে ২ উইকেট শিকার করে পাকিস্তানকে চালকের আসনে বসিয়ে দেন শাদাব। বাভুমা ১৯ বলে ৩৬ ও আইডেন মার্করাম ১৪ বলে ২০ রান করে শাদাবের শিকার হন।

৯ ওভার শেষে বৃষ্টিতে বন্ধ হয় খেলা। এ সময় দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৬৯ রান। এমন অবস্থায় বৃষ্টি আইনে ১৫ রানে পিছিয়ে ছিলো প্রোটিয়ারা।

পরে বৃষ্টি কমলে ১৪ ওভারে ১৪২ রানের নতুন টার্গেট পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। অর্থাৎ শেষ ৫ ওভারে ৬ উইকেট হাতে নিয়ে ৭৩ রান দরকার পড়ে তাদের।

পাকিস্তানের বোলারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে শেষ ৫ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ৩৯ রানের বেশি তুলতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৪ ওভারে ৯ উইকেটে ১০৮ রান করে ম্যাচ হারে প্রোটিয়ারা। পাকিস্তানের আফ্রিদি ৩টি ও শাদাব ২টি উইকেট নেন। ম্যাচ সেরা হন শাদাব।

আগামী ৬ নভেম্বর গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলবে পাকিস্তান। একই দিন নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে মাঠে নামবে দক্ষিণ আফ্রিকা।

 

 


মতামত জানান :

 
 
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম