সংবাদ শিরোনাম

 

 

জামালপুর জেলার বৃহৎ একমাত্র সরকারি চিকিৎসা সেবার স্থান ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল। ভবনের ছাদের বিভিন্ন স্থান থেকে পলেস্তারা খসে রড বের হয়ে গেছে।

তবুও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন ঝুঁকিপূর্ণ ওই ভবনে। স্থাপনাটির মূল বিমগুলোতে ফাটলসহ দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। মাথার ওপর এমন শঙ্কা নিয়ে চিকিৎসাসেবাসহ অন্যান্য কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারি-কর্মকর্তারা।

এই অবস্থায় দ্রুত একতলা মেয়াদ উত্তীর্ণ ভবনটিতে চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ করে অন্য কোনো ভবনে চিকিৎসকদের স্থানান্তরের কথা জানায় তারা। এ দিকে গণপূর্ত বিভাগ বলছে, ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সেখানে ভবনটি ভেঙে একটি বহুতল ভবন তৈরির প্রস্তাবনাও দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতালের প্রধান ফটকের প্রবেশ করতেই চোখে পরবে পুরাতন জীর্ণ শীর্ণ একতলা ভবন। ১৯৪৬ সালে নির্মিত এই ভবনটি প্রথম ৫০ শয্যার হাসপাতাল ছিল। ২০০৩ সালে হাসপাতালটি ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে উন্নীত করার পর এখানে বর্তমানে বহির্বিভাগের আগত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেন চিকিৎসকরা। শুধু চিকিৎসা সেবাই নয় এখানে রয়েছে টিকিট কাউন্টার, অনুসন্ধানী ডেস্ক, ওষুধ সরবরাহ কেন্দ্র ও রোগীদের অপেক্ষার করার স্থলও। সম্প্রতি বিভিন্ন সময় চিকিৎসকসহ রোগীদের মাথায় পলেস্তারার পরার ঘটনাও ঘটেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, পুরো হাসপাতালে ৭৩ চিকিৎসক পদের বিপরীতে এখন সেবা দিচ্ছেন ৪৯ জন। এছাড়া প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনটিতে ৩৯ জন চিকিৎসক রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। আর চিকিৎসা সেবা নিতে গড়ে প্রায় ১২০০ থেকে ১৫০০ রোগী চিকিৎসাসেবা নিয়ে আসছে।

চিকিৎসকরা জানান, ভবনটি অনেক আগেই ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। তার পরেও তারা চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এবং যারা চিকিৎসাসেবা নিতে আসছে উভয়পক্ষই বিপজ্জনক অবস্থার রয়েছেন। মাঝে মধ্যেই ছাদের প্লাস্টার খুলে পড়ছে। অনেকেই অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন। ঝুঁকির মধ্যেও চিকিৎসকদের কাজ করতে হচ্ছে। দ্রুত সময়ের এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

জামালপুর হাসপাতালের রেসিডেন্ট মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সামীম ইফতেখার বলেন, আমাদের এই ভবনটির অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায় সময় আমাদের চিকিৎসকদের ওপর পলেস্তারা ভেঙে পরেছে। এ জন্য গণপূর্ত বিভাগকে কয়েকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এমন জরুরি স্থাপনার বিকল্প কোনো স্থাপনা না থাকায় আমাদের বাধ্য হয়েই এই ভবনে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যেতে হচ্ছে।

ডা. সারমিন মান্নান নামের আরেক চিকিৎসক বলেন, দীর্ঘদিন যাবত এই ভবনকে পরিত্যক্ত বলে ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা এই ভঙ্গুর ভবনেই কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের কয়েক জন চিকিৎসক আহতও হয়েছেন। আমরা যারা সেবা দিচ্ছি বা যারা সেবা নিয়ে যাচ্ছেন উভয় পক্ষই ঝুঁকির মধ্যে দিন পাড় করছি। এই ভবনটির জন্য জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

এদিকে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীরাও রয়েছেন আতঙ্কে, যে কোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন হাসপাতালেও কর্মচারীরাও।

হাসপাতালে মাকে নিয়ে চিকিৎসাসেবা নিতে এসেছেন শাউন মোল্লা নামের এক যুবক। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, আমি মাকে নিয়ে ডাক্তার দেখাতে এসেছি। এখানে এসে তো মায়েরও ভয় লাগছে আমারও ভয় লাগছে। কখন না ওপর থেকে ভবন ভেঙে পড়ে। এই ভবনটি শুনেছি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। তাহলে দ্রুত কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না কেনো। নাকি রানা প্লাজার মত মারা যাওয়ার পর সব ব্যবস্থা নেবে।

জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল সহকারী পরিচালক ডা. মাহফুজুর রহমান সোহান বলেন, অনেক সময় ডাক্তার ও রোগীরাও আহত হয়ে পরছে এ কারণে। গণপূর্ত বিভাগের মাধ্যমে নতুন ভবনের চাহিদা দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। দ্রুত সময়ের ভেতর নতুন ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া না শুরু হলে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হতে পারে।

জামালপুর গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এফ এম আশরাফুল আউয়াল রানা বলেন, মেয়াদ উত্তীর্ণ এই ভবনটিতে যে কোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে।

 


মতামত জানান :

 
 
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম