সংবাদ শিরোনাম

 

চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১১১ জন নিহত ও আহত অনেক। স্থানীয় সময় সোমবার রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে গানসু ও কিংহাই প্রদেশের সীমান্ত অঞ্চলে এই ভূমিকম্প আঘাত হানে। ধ্বংসস্তূপের নীচে যারা আটকে পড়েছেন, তাদের উদ্ধারে কাজ শুরু করে দিয়েছেন উদ্ধারকারীরা।

ভূমিকম্পটি ৬.১ মাত্রার ছিল বলে জানিয়েছে ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প কেন্দ্র (ইএমএসসি)। ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল গানসু প্রদেশের রাজধানী লানঝৌ থেকে ১০০ কিমি দূরে মাটি থেকে মাত্র ১০ কিমি গভীরে। যদিও চিনের সরকারি চ্যানেল তাদের প্রতিবেদনে দাবি করেছেন, কম্পনের মাত্রা ছিল ৬.২।

 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি ৫.৯ মাত্রার। আর চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিনহুয়া জানিয়েছে, ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৬.২। ভূমিকম্পের পর কয়েকবার পরাঘাত (আফটারশক) অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পে বেশ কিছু ভবন ধসে পড়েছে।

আরও এক টেলিভিশন চ্যানেল সিসিটিভি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু গানসু প্রদেশেরই এখনও পর্যন্ত ১০০ জন মারা গিয়েছেন, আহত বহু। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। অন্য দিকে, কিংহাই প্রদেশে এখনও পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত শতাধিক। দুই প্রদেশেই চলছে উদ্ধারকাজ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বহু এলাকা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

 

প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ওই দুই প্রদেশের আধিকারিকদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। উদ্ধারকাজে কোনও ত্রুটি না রাখা এবং আহতদের সেবা শুশ্রূষায় নিজেদের সেরাটা দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, ভূমিকম্পের ফলে আতঙ্কিত হয়ে লোক জন রাস্তায় দৌড়চ্ছেন এবং নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজ করছেন। ধ্বংসস্তূপের ছবিও দেখা গিয়েছে বেশ কিছু ভিডিয়োয়।

 

চীনে ভূমিকম্প অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। আগস্টে একটি ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্প পূর্ব চীনে আঘাত হানে। এই ঘটনায় ২৩ জন আহত হন এবং বেশ কিছু বহুতল ধসে পড়ে। ২০২২ সালে সিচুয়ান প্রদেশে ৬.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে প্রায় ১০০ জনের মৃত্যু হয়। ২০০৮ সালে সিচুয়ান প্রদেশে ৭.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে প্রায় ৯০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে পাঁচ হাজারেরও বেশি ছিল শিশু। আহতের সংখ্যা ছিল প্রায় চার লক্ষ।

 


মতামত জানান :

 
 
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম