সংবাদ শিরোনাম

 

শেষ ওভারে ২৯ রান প্রয়োজন ছিল কুমিল্লার। তখন স্ট্রাইকিং প্রান্তে ছিলেন তাওহীদ হৃদয়। ডাবলস নিতে গিয়ে রান আউট হলে ক্রিজে নামেন আমের জামাল। কিন্তু তিনিও লম্বা শট খেলতে গিয়ে সাজঘরে ফেরেন দ্রুত। আউট হওয়া বলগুলোকে কাজে লাগাতে পারলে হয়তো ভিন্ন কিছু হলেও হতে পারতো। তার কারণ, বাকি চার বলে ২ ছক্কা, এক ডাবল ও এক চার মেরে আফসোস বাড়িয়েছেন জাকের আলী অনিক। শেষ পর্যন্ত সমীকরণ না মেলাতে পারায় বিপিএলে ৮ রানের হার নিয়ে মাঠ ছেড়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাটিং করে কুমিল্লাকে ১৬৬ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল রংপুর রাইডার্স। ধুম-ধারাক্কা ক্রিকেটে এই রান কঠিন হওয়ার নয়। কিন্তু কুমিল্লার শুরুটা ছিল বাজে। প্রথম বলে অধিনায়ক লিটন যেভাবে আউট হয়েছেন, পাড়ার ক্রিকেটেও এমন উদাহরণ খুব কম আছে। এরপর মোহাম্মদ রিজওয়ান ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন মিলে ভালোই হাল ধরেছিলেন। এই জুটি তুলে ফেলেছিল ৫৯ রান। রিজওয়ান ২১ বলে ১৭ রানে আউট হওয়ার পর তাওহীদ হৃদয়কে সঙ্গে নিয়ে অঙ্কন আরও ৫৩ রানের জুটি গড়েছিলেন।

কিন্তু মাঝের কিছু ওভারে সমান তালে রান তুলতে না পারায় চাপ বেড়ে যায় কুমিল্লার। শেষ ৫ ওভারে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ৫০ রানের। কঠিন এই সমীকরণ হয়তো মিলে যেত। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সময় মাহিদুল ও খুশদিল শাহের উইকেট হারানোটাই কাল হয়েছে কুমিল্লার। দারুণ খেলতে থাকা মাহিদুল লম্বা শট খেলতে গিয়ে বিদায় নিয়েছেন। তার আগে ৫৫ বলে ৪ চার ও ৩ ছক্কায় উপহার দিয়েছেন ৬৩ রানের দারুণ একটি ইনিংস। খুশদিলও তাই। আজমতউল্লাহকে ছক্কায় উড়ানোর পরের বলেই ফজলে মাহমুদের দারুণ ক্যাচে পরিণত হন তিনি। আউট হওয়ার আগে খেলেন ১৮ রানের ইনিংস। স্বাভাবিক ভাবেই গুরুত্বপূর্ণ দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় কুমিল্লা। সেই চাপ থেকে আর বেরিয়ে আসতে পারেনি তারা। শেষ চার বলে জাকের আলী অনিকের ক্যামিও ইনিংস কেবল আফসোসই বাড়িয়েছে চারবারের চ্যাম্পিয়নদের। শেষ ওভারে ২৯ রানের সমীকরণ থাকলেও কুমিল্লা করতে পারে ২০। তাতে ৬ উইকেটে শেষ পর্যন্ত ১৫৭ রান করেছে তারা।

রংপুরের বোলারদের মধ্যে আজমতউল্লাহ ওমরজাই সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া সাকিব আল হাসান, হাসান মাহমুদ ও মোহাম্মদ নবী প্রত্যেকে নিয়েছেন একটি করে উইকেট।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিং নেওয়া রংপুর রাইডার্সের শুরুটাও ভালো ছিল না। ভালো শুরু এনে দিতে পারেননি ব্র্যান্ডন কিং (১৪)। দলীয় ১৮ রানে সাজঘরে ফেরেন তিনি। তার পর বাবর আজম ও ফজলে মাহমুদ মিলে ইনিংসটাকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। ৫৫ রানের জুটি গড়েন তারা। রংপুরের ইনিংসের বড় জুটিটি ছিল তাদের। বাবর ৩৬ বলে ৩৭ রানে ফিরলে ভাঙে জুটি। ফজলে মাহমুদও ফিরে যান তার পর। ফেরার আগে ২১ বলে ৩০ রান করেছেন।

তখন ১৫ ওভার শেষে রংপুরের স্কোর ছিল ৯৭। সেখান থেকে আজমতউল্লাহ ও নুরুল হাসান সোহানের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ১৬৭ রানের স্কোর গড়তে পারে রংপুর। শেষ ৫ ওভারে রংপুরের স্কোরবোর্ডে জমা হয় ৬৮ রান। আজমতউল্লাহ ২০ বলে খেলেছেন ৩৬ রানের ইনিংস। মোহাম্মদ নবী ৭ বলে ১৩ এবং নুরুল হাসান সোহান ৬ বলে ১৫ রানের ক্যামিও ইনিংস উপহার দিয়েছেন।

কুমিল্লার বোলারদের মধ্যে রেমন রেইফার ২০ রানে সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নিয়েছেন। খুশদিল শাহ, তানভীর ইসলাম ও মোস্তাফিজুর রহমান নিয়েছেন একটি করে উইকেট।

রংপুর রাইডার্স মঙ্গলবার নিজেদের পঞ্চম ম্যাচ খেলেছে। পাঁচ ম্যাচে রংপুরের এটি তৃতীয় জয়। এই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিন নম্বরে অবস্থান করছে তারা। অন্য দিকে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স চার ম্যাচ খেলে দুটি জয় পেয়েছে। ৪ পয়েন্ট নিয়ে তাদের অবস্থান চার নম্বরে। ৪ ম্যাচে পুরো ৮ পয়েন্ট নিয়ে সবার উপরে খুলনা টাইগার্স।

 


মতামত জানান :

 
 
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম