সংবাদ শিরোনাম

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার (১১ নভেম্বর) কক্সবাজার থেকে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম পর্যন্ত রেলপথের উদ্বোধন করবেন। এর মাধ্যমে ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত চালু হবে ট্রেন চলাচল।

রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, এ রেলপথ নির্মাণে রাজনৈতিক একটা প্রভাব পড়বে। নির্বাচনী যে অঙ্গীকার করেছিলাম সেটা পূরণে বলা যাবে আমরা পূরণ করেছি। এতে মানুষ উন্নয়নের যে ধারা তার সঙ্গে থাকবে বলে মনে করি।

শুক্রবার (১০ নভেম্বর) কক্সবাজার রেলস্টেশন পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, এটার মূল প্রকল্প রামু থেকে ঘুমদুম পর্যন্ত। এটা আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ বার্মার (মায়ানমার) সঙ্গে যুক্ত হবে। বার্মার দিক থেকে রেলের যে অবকাঠামো সেখানে তারা পিছিয়ে আছে। যে কারণে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কক্সবাজার পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ট্রান্স এশিয়ান যে রেল চলাচলের কথা বলা হচ্ছে সেটির জন্য অপেক্ষা করতে হবে। কারণ বার্মার দিক থেকে চীনের সঙ্গে, কুমবিং এর সঙ্গে যে রেলপথ সেটি বার্মা বা চীনের সরকারের সহায়তায় যতদিন বাস্তবায়ন না হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল এ আইকনিক স্টেশন থেকে ঢাকাসহ গোটা বাংলাদেশের সঙ্গে কক্সবাজারের রেল যোগাযোগের উদ্বোধন করবেন।

তিনি বলেন, এখন যে কটি প্রকল্প আছে সেটির মধ্যে এটিও অন্যতম একটি অগ্রাধিকার প্রকল্প। রেল সম্প্রসারণের স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে। মাতারবাড়ি যে গভীর সমুদ্র বন্দর হচ্ছে সেখানেও এই রেল যোগাযোগ বড় ভূমিকা রাখবে। কাল উদ্বোধনের মধ্যে নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছি।

মালবাহী ট্রেনের বিষয়ে বলেন, ডিসেম্বরের ১ তারিখে যাত্রীবাহী ট্রেন চলবে। একটি আন্তনগর ট্রেন দিয়ে শুরু হবে। একটা মেইল ট্রেন দোহাজারী পর্যন্ত চলাচল করে সেটা পরবর্তীতে কক্সবাজার পর্যন্ত আসবে।

মোট ১৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকার এ প্রকল্পে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ১৩ হাজার ১১৫ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে। বাকি ৪ হাজার ১১৯ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে।

প্রকল্পের জন্য কক্সবাজার জেলায় ১ হাজার ৩৬৫ একর জমি অধিগ্রহণ করতে হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হয়েছে নয়টি রেলস্টেশন, চারটি বড় ও ৪৭টি ছোট সেতু, ১৪৯টি বক্স কালভার্ট এবং ৫২টি রাউন্ড কালভার্ট।

তারপর চলতি বছরের আগস্ট মাসের শুরুতে চট্টগ্রাম অঞ্চলে রেকর্ড বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ি ঢলে রেললাইনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারজন্য এ প্রকল্প আরও পিছিয়ে যায় কয়েক মাস।

অবশেষে আগামীকাল শনিবার (১১ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দোহাজারী থেকে কক্সবাজার রেলপথ উদ্বোধন করবেন।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় কক্সবাজারে ঝিনুকের আদলে আধুনিক রেলস্টেশন নির্মাণের পাশাপাশি দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত মোট ৯টি স্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া সংরক্ষিত বন এলাকায় রেললাইন স্থাপন করায় বন্যহাতি ও বন্যপ্রাণী চলাচলের জন্য ওভারপাস নির্মাণ করা হয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম।

সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, জেলা শহর থেকে তিন কিলোমিটার পূর্বে ঝিলংজা ইউনিয়নের হাজিপাড়া এলাকায় ২৯ একর জমির ওপর দৃশ্যমান আইকনিক রেলস্টেশন। ঝিনুকের আদলে তৈরি দৃষ্টিনন্দন এ স্টেশন ভবনটির আয়তন ১ লাখ ৮২ হাজার বর্গফুট। ছয়তলা বিশিষ্ট স্টেশনটি নির্মাণে বিশ্বের বিভিন্ন আধুনিক স্টেশনের সুযোগ-সুবিধা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। চার বছরের শ্রমে আইকনিক রেলস্টেশন ভবনটি আজ সত্যিই চোখ জুড়ানো বাস্তবতা।

এরপরের চ্যালেঞ্জ মায়ানমারের আপত্তি নিষ্পত্তি করে ঘুমধুম পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারণের মাধ্যমে চীনসহ দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশীয় দেশগুলোর সঙ্গে রেলপথ চালু।

এরফলে বিনিয়োগ-শিল্পায়ন ও বাণিজ্যিক বন্ধন সহজতর হয়ে উঠবে। কৃষি-খামার ও শিল্প-কারখানায় উৎপাদিত পণ্যসামগ্রীর বাজারজাত এবং রফতানি সুবিধার প্রসার ঘটবে। বৃহত্তর চট্টগ্রামের জনসাধারণের কর্মচাঞ্চল্য ও সচ্ছলতা বাড়বে।

 


মতামত জানান :

 
 
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম