সংবাদ শিরোনাম

 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলডিসি (স্বল্পোন্নত) দেশগুলোর জন্য অবকাঠামো নির্মাণে আন্তর্জাতিক সমর্থন শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন। এ জন্য তিনি এলডিসি দেশগুলোর জন্য শক্তিশালী নীতি ও সহায়ক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এলডিসি এশিয়া প্যাসিফিক রিজিওনাল রিভিউ বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। আগামী বছরের জানুয়ারি মাসে দোহায় এলডিসির পঞ্চম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এ সম্মেলনকে সামনে রেখে জেনেভায় রিভিউ বৈঠকটি ৩০ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ড. মোমেন এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের এলডিসি দেশগুলোর বিশেষ করে দারিদ্র্য হ্রাস এবং মানবসম্পদ ও অবকাঠামো বিনিয়োগে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির প্রশংসা করেন।

তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল, সাহসী এবং দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশের গ্র্যাজুয়েশনের উন্নতি বর্ননা করে বলেন, বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ২২২৭ ডলারে পৌঁছেছে এবং দারিদ্র্য হ্রাস পেয়েছে ২০.৫ শতাংশ।

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমা উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

এদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ড. তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস ও ড. মোমেনর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য কোভিড ভ্যাকসিনের প্রাপ্যতা, সামর্থ্য এবং ন্যায়সঙ্গত বিতরণ নিশ্চিত করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার ওপর জোর দেন।

ড. মোমেন কোভিড ভ্যাকসিন, ওষুধ এবং অন্যান্য চিকিৎসা যন্ত্রপাতি তৈরিতে কর সাময়িক মওকুফের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি ভ্যাকসিন, থেরাপিউটিক্স, ডায়াগনস্টিকস এবং অন্যান্য চিকিৎসা যন্ত্রপাতি উৎপাদনের জন্য বাংলাদেশের সামর্থ্যের কথা তুলে ধরেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জনস্বাস্থ্য, বিশেষ করে বাংলাদেশে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যের উপর কমিউনিটি ক্লিনিকের উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে অবহিত করেন এবং এ ধরনের আরো ক্লিনিক স্থাপনের জন্য ডব্লিউএইচওর সহায়তা চান।

বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন স্বাস্থ্য খাতের মূলধারায় মানসিক স্বাস্থ্য এবং অটিজম সমস্যা সামনে নিয়ে আসার জন্য মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এর উপদেষ্টা প্যানেলের সদস্য সায়মা ওয়াজেদের ব্যক্তিগত উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

অন্যদিকে ইউএনএইচসিআরের মহাপরিচালক ফিলিপো গ্র্যান্ডির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় ড. মোমেন বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে ইউএনএইচসিআরের সহযোগিতার জন্য অনুরোধ করেন।

বাংলাদেশে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার অসাধারণ মানবিক সিদ্ধান্তের জন্য গ্র্যান্ডি বাংলাদেশ সরকার, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ডব্লিউআইপিও -এর মহাপরিচালক ড্যারেন ট্যাং -এর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বাংলাদেশের আইপি সেক্টরকে শক্তিশালী করতে সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশের মসৃণ গ্র্যাজুয়েশন এবং ভিশন ২০৪১ -এর অর্জনের জন্য ডব্লিউআইপিও’র বিশেষ সহায়তা এবং সুবিধা চান।

ড. মোমেন এবং ট্যাং উভয়েই একমত হয়েছেন যে, মেধা সম্পদ উন্নয়নের হাতিয়ার হওয়া উচিত ক্ষুদ্রশিল্প,নারী উদ্যোক্তা এবং যুবকদের জন্য প্রণোদনা হিসেবে কাজ করা উচিত।


মতামত জানান :

 
 
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম