সংবাদ শিরোনাম

 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু নির্মাণ প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ হওয়ার পথে। যমুনার বুকে নির্মিত এ সেতু ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ দৃশ্যমান। দেশের অন্যতম বৃহৎ এ সেতু এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জাপান ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রায় শেষের দিকে। ডব্লিউডি-১ ও ডব্লিউডি-২ নামে দুটি প্যাকেজে জাপানি ৫টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ প্রকল্পের কাজ করছে।
ডব্লিউডি-১ প্যাকেজটি বাস্তবায়ন করছে জাপানি আন্তর্জাতিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওবাইসি, টোআ করপোরেশন ও জেইসি (ওটিজে) জয়েন্ট ভেনচার। ডব্লিউডি-২ প্যাকেজটি বাস্তবায়ন করছে জাপানের আইএইচআই ও এসএমসিসি জয়েন্ট ভেনচার। এ রেল সেতু নির্মাণে জাপান, ভিয়েতনাম, নেপাল, অস্ট্রেলিয়া, ফিলিপাইন ও বাংলাদেশের কর্মীরা দিনরাত কাজ করছেন। এ সেতুর ৫০টি পিলারের ওপর ৪৯টি স্প্যান বসিয়ে ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার সুপার স্ট্রাকচার এখন পুরোপুরি দৃশ্যমান।

এ সেতুর অ্যাডজাস্টমেন্টের কাজ চলছে এবং উভয়পাশের স্টেশন নির্মাণ, স্লিপারবিহীন রেলপথ স্থাপনসহ কিছু কাজ এখন বাকি রয়েছে এবং রেলসেতুতে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। তবে এ বছরের শেষ দিকে এ সেতু নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা। বঙ্গবন্ধু সেতুর পাশাপাশি যমুনার বুকে নির্মাণাধীন এ সেতু উদ্বোধনের পর ঢাকার সঙ্গে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রেল যোগাযোগে আরো একটি নতুন দিগন্তের সৃষ্টি হবে। এ সেতু দিয়ে প্রতিদিন কমপক্ষে ৮৮টি যাত্রীবাহী ও মালবাহী ট্রেন চলাচল করবে। এতে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক অবস্থার চাকা ঘুরবে।

সেতুর পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ওরিয়েন্টাল কনসালটেন্ট গ্লোবাল লিঃ সাব স্ট্রাকচার ইঞ্জিনিয়ার রবিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, সেতুতে ৫০টি পিলার ও ৪৯টি স্প্যান বসানো শেষ হয়েছে এবং সেতুর ওপরে রেললাইন স্থাপন শেষ হয়েছে। বর্তমানে ডব্লিউডি-১ প্যাকেজে ২ হাজার ৯৭৯ ও ডব্লিউডি-টু প্যাকেজে ২ হাজার ৮৪১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন।

ওই সেতু প্রকল্পের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিটি স্প্যানের ওপর অত্যাধুনিক প্রযুক্তির রেললাইন বসানো হয়েছে। এতে সেতুর ওপর দিয়ে ঘন্টায় ১২০ কিলোমিটার বেগে ট্রেন চলাচল করতে পারবে। রেলসেতুর কাজ প্রায় শেষ হয়েছে এবং দুই পাড়ের স্টেশন বিল্ডিংয়ের কাজ, প্লাটফর্ম স্থাপনের কাজ ও ট্র্যাকের কাজ চলছে। এ বছরের শেষ দিকে এ সেতু উদ্বোধনের সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে বঙ্গবন্ধু সেতু চালু হওয়ার পরই ঢাকার সঙ্গে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রেল যোগাযোগ স্থাপিত হয়। তবে ২০০৮ সালে সেতুটিতে ফাটল দেখা দেয়ায় কমিয়ে দেয়া হয় ট্রেনের গতিসীমা।

বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৩৮টি ট্রেন ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটার গতিতে সেতু পারাপার হওয়ায় সময়ের অপচয়সহ শিডিউল বিপর্যয় ঘটছে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার যমুনা নদীর ওপর আলাদা এ রেলসেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। ২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেতু নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন এবং ২০২১ সালের মার্চ মাসে পিলার নির্মাণে পাইলিংয়ের কাজ শুরু হয়।

এদিকে যমুনার বুকে দেশের অন্যতম এ বৃহৎ রেলসেতু নির্মাণে শেখ হাসিনা সরকার উন্নয়নে আরো প্রশংসিত হচ্ছে বলে এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন বিশিষ্টজনেরা।


মতামত জানান :

 
 
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম