সংবাদ শিরোনাম

 

ডলারের দাম ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, চাহিদা তুলনায় সরবরাহ কম থাকাসহ নানা অজুহাতে গত একমাস ধরে ঈদকে সামনে রেখে বেড়েছে সব ধরনের মসলার দাম।

শুক্রবার (১৪ জুন) রাজধানীর নিউমার্কেট, মোহাম্মদপুর ও কারওয়ান বাজারের মসলা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত একমাসে ১০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০ টাকা, আবার কোনো কোনো মসলার দাম তারও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

মানভেদে বর্তমানে প্রতি কেজি এলাচ ৪ হাজার ২০০ টাকা টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। যেটা গত মাসে ছিল ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৬০০ টাকা। গত বছর কোরবানির সময় একই এলাচ বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকার মধ্যে।

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কোরবানির ঈদের সময় দারুচিনির চাহিদা‌ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এই চাহিদার তুলনায় যোগান কম থাকায় গত একমাসে দারুচিনির দাম বেড়েছে ৫০ টাকা। গতমাসে দারুচিনি বিক্রি হয়েছে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায়। এখন বিক্রি হচ্ছে ৫৬০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে। গত বছর কোরবানির সময় একই দারুচিনি বিক্রি হয়েছে ৪৬০-৫২০ টাকায়।

চাহিদা বেশি থাকায় গত একমাসের তুলনায় জিরার দাম বেড়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। এখন বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি জিরা বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮৮০ টাকায়। যা গত মাসে ছিল ৬৬০ থেকে ৮৫০ টাকায়।

গতমাসের তুলনায় এ মাসে লবঙ্গর দামও বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি লবঙ্গ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৭৬০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকায়। যা গত মাসে ছিল ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকার মধ্যে।

কোরবানির ঈদ আসলে বেড়ে যায় আদা, রসুন ও পেঁয়াজের দাম। গতমাসের তুলনায় এ মাসে এই তিনটি মসলার দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। গতমাসে যে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায় এই মাসের তা বিক্রি হচ্ছে ৮৫ থেকে ৯০ টাকায়। গত মাসের রসুন বিক্রি হয়েছে ২০০ থেকে ২২০ টাকায়, এ মাসে বিক্রি হচ্ছে ২৩০ থেকে ২৫০ টাকায়। আর গত মাসের তুলনায় এ মাসে আদার দাম কেজিতে ১০০ টাকার মতো বৃদ্ধি পেয়েছে। গত মাসে যে আদা বিক্রি হতো ২০০ থেকে ২২০ টাকায়, এই মাসে তা বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়।

এছাড়াও এক মাসে অন্যান্য মসলারও দাম বেড়েছে। এর মধ্যে এখন ধনিয়া প্রতি কেজি ২৪০ থেকে ৩৬০ টাকা, যা গত মাসে ছিল ২৩০ থেকে ৩০০ টাকা। তেজপাতা বিক্রি হচ্ছে ২০০-৩০০ টাকা, যা গত মাসে ছিল ১৫০ থেকে ২৪০ টাকা। জয়ত্রী ৪ হাজার টাকা ও জয়ফল দেড় হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর নিউমার্কেটে কোরবানির ঈদের জন্য মসলা কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী নোমান হাসানের কাছে দাম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, বেশি না গত একমাস যে এলাচ নিয়েছে ৩৫০০ টাকা দরে, আজ চাচ্ছে ৪ হাজার টাকা। আদা গত মাসে নিয়েছিলাম ২০০ টাকায় এখন চাচ্ছে ৩৫০ টাকা। দোকানিকে জিজ্ঞাসা করলে বলে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে আমাদের কোনো হাত নেই। এই দাম আমাদের মত সাধারণ ক্রেতাদের পকেটে কাটা ছাড়া আর কিছু না।

মসলার দাম বৃদ্ধি কারণ জানতে চাইলে রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হলে মসলা ব্যবসায়ী মো. আবির মিয়া বলেন, কোরবানির ঈদ আসলে মসলার চাহিদা বৃদ্ধি পায়, এর কারণে কিছুটা দাম বাড়ে। এছাড়া এবছর ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণে মসলা চাহিদা মতো আমদানি করা যাচ্ছে না। আর আবহাওয়া পরিবর্তনের জন্য উৎপাদনকারী দেশগুলোতেও চাহিদা অনুযায়ী মসলা উৎপাদন হচ্ছে না। তাই এবছর মসলার দাম গতবারের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) সূত্র মতে, এক বছরে দেশি পেঁয়াজের দাম প্রায় ১০ শতাংশ, রসুনের দাম সর্বোচ্চ ৬৯, আদা ২৩, দারুচিনি ১৯, লবঙ্গ ১১, এলাচ ৮৭ ও তেজপাতার দর ৮৫ শতাংশ বেড়েছে।


মতামত জানান :

 
 
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম